• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামানত হারালেন তিন প্রার্থী নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত

কারাগারে ৫ শতাধিক মানসিক রোগী

সিসি ডেস্ক: ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি, বিচারে দীর্ঘসূত্রতার ফলে হতাশা ও মানবেতর জীবনযাপনসহ নানা কারণে দেশের কারাগারগুলোয় বন্দিদের মধ্যে মানসিক সমস্যা বাড়ছে। কারাগারগুলোয় বর্তমানে পাঁচ শতাধিক বন্দি মানসিক রোগে আক্রান্ত। কিন্তু তাদের জন্য নেই একজনও মানসিক রোগের চিকিৎসক। দ্রুত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কারাবন্দিদের মানসিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারা সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৮টি কারাগার রয়েছেন। এসব কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ৬১৪ জন। কিন্তু মোট বন্দি রয়েছে ৭৬ হাজার ৭৬৮ জন, যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৫৭ হাজার ৬০৫ এবং নারী ২ হাজার ৩৪০ জন। যদিও কারাগারের পুরুষ বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৯৪০ এবং নারী ১ হাজার ৬৭৪ জন।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি, বিচারে বিলম্ব, স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় নিদারুণ যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে হয় বন্দিদের। আর এসব যন্ত্রণা থেকেই বন্দিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাদের জীবনে সুস্থতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত কাউন্সেলিং। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে কারা অভ্যন্তরে।

এ বিষয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক মুনতাসির মারুফ বলেন, কারা বন্দিদের সবাই যে কারাগারে এসে মানসিক রোগে আক্রান্ত হন, তা কিন্তু না। কিছু রোগী থাকেন, যারা আগে থেকেই মানসিক রোগাক্রান্ত। কিন্তু কারাগারে আসার পর বিষয়টি বোঝা যায়। তখন কারা কর্তৃপক্ষ ওইসব রোগীর চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা যেটা হয়, সেটা হচ্ছে এ ধরনের রোগীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দরকার, যেটা আমাদের এখানে সম্ভব হয় না। ওইসব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই কারাগারে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।

কারা অভ্যন্তরে বন্দিদের মানসিক চিকিৎসার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, এ সমস্যাটা আমরাও অনুভব করছি। কিন্তু সবকিছুতেই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। এক্ষেত্রে তেমনই হয়েছে। কারণ আমাদের কোনো মানসিক চিকিৎসক নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

মানসিক রোগ নিরাময়ে প্রয়োজন নিয়মিত কাউন্সিলিং। কিন্তু কারাগারে যেসব মানসিক রোগী আছেন, তাদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে ওইসব রোগীর চিকিৎসার জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার এক বা দুই সপ্তাহ পর ফলোআপ চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেখা দেয় আইনি জটিলতা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কারাবন্দি মানসিক রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন বলেন মনে করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফরেনসিক ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খসরু পারভেজ চৌধুরী।

তিনি বলেন, মানসিক রোগ অন্যসব রোগের মতো না যে, নিয়মিত ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। কারাবন্দি মানসিক রোগীদের চিকিৎসা ছাড়াও যেসব বন্দি নতুন করে কারাগারে আসেন, তাদের মানসিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য অবশ্যই কারা অভ্যন্তরে একটি ফরেনসিক ফিজিওথেরাপিসমৃদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রয়োজন। তাছাড়া কোনোভাবেই কারাবন্দি মানসিক রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

বাড়ছে মাদকাসক্ত বন্দি

কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতাও বাড়ছে। কারাসূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে ৭ হাজার ১৩৫ জন বন্দিই মাদকাসক্ত। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারের ঘরে। এক বছরের ব্যবধানে মাদকাসক্ত বন্দি বেড়েছে দুই হাজারেরও বেশি।

বন্দিরা কীভাবে কারা অভ্যন্তরে মাদক পান, এমন প্রশ্নের জবাবে আইজি (প্রিজন) বলেন, এসব বন্দি মূলত আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় লোক মারফত মাদক সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। অনেক সময় বন্দিরা শরীরের অনেক গোপন স্থানে করেও মাদক নিয়ে আসেন, যা শরীর তল্লাশি করে পাওয়াটা খুবই কঠিন। আবার অনেক বন্দির বাড়ি থেকে খাবারের ভেতরও মাদক পাঠানো হয়। কারাগারের অভ্যন্তরে মাদকের প্রবেশ বন্ধ করতে এরই মধ্যে লাগেজ স্ক্যানার এবং বডি স্ক্যানার কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যেই অত্যাধুনিক মেশিন দুটি প্রথমে কেন্দ্রীয় কারাগারে যুক্ত হবে, পরে দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কারাগারেও ওই মেশিন সরবরাহ করা হবে।

কারাবন্দিদের মাদকাসক্তি দূর করতে বন্দি পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুল নামের একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষামূলকভাবে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দি পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দিদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণও প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে কারা অধিদপ্তরের।

উৎসঃ   বণিকবার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ